Herbal Trees – Cure of native plants and fruits

মুখের ব্রণ দূর করার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও কালো দাগ দূর করার চিকিৎসা

মুখের ব্রণ ও কালো দাগ দূর করার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

মুখের ব্রণ ও কালো দাগ দূর করার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা: মুখে ব্রণ হলে সেই ব্রণ দূর করা খুবই মুস্কিল কাজ হয়ে পড়ে। আর তার থেকেও আরো মুশকিল কাজ হয় ব্রণর ফলে হওয়া মুখে গর্তের দাগকে শেষ করা। যদি মুখে ব্রণ, ফুসকুড়ির কালো দাগ আর গর্ত এই তিনটিই থাকে তাহলে সবার প্রথমে এই ব্রণকে ঠিক করতে হবে তারপর দাগ, গর্তের ব্যাপারে ভাবতে হবে, কারণ এই তিনটিকে এক সঙ্গে শেষ করার কথা ভাবলে এই ব্রণ, দাগ, গর্ত কিছুই ঠিক ভাবে সেরে উঠবে না। যখনই মুখে ব্রণ হয়।তখন ঐ ব্রনগুলি শেষ হতে হতে মুখে কালো ছোপ অবশ্যই ছেড়ে যায়, সেই কালো ছোপকে তোলা অনেক মুস্কিল হয়ে পরে।

যখনই মুখে ব্রণ হয়, তখন এটি নিজেই নিজেই শেষ হতে ৭-৮ দিন সময় লাগায় আর যখন এই ব্রণ নিজে থেকেই শেষ হয় তখন এর দাগগুলো প্রায় হালকা ছোপ ছোপ হয়ে থাকে এটি ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ব্রণ বের হওয়ার পরেই হাত দিয়ে টিপলে ব্রণ ভালো হতে অনেক সময় নিয়ে নেবে এবং এর দাগও অনেক গাঢ় হয়ে যায় আর দাগ মিটতে মাস খানেক সময় লেগে যাবে।

এই জন্য মনে রাখতে হবে,যদি ব্রণকে দ্রুত মুখ থেকে শেষ করতে হয় আর যদি ঐ দাগ,গর্ত থেকে বাঁচতে হয়। তাহলে ব্রণকে কখনোই টিপবেন না।যে কোনো হোম রেমেডি ব্যাবহার করার আগে একটাই প্রশ্ন আসবে যে, এই রেমেডি কত দিন পর্যন্ত ব্যাবহার করতে হবে। যার ফলে এই দাগ,গর্তের সমস্যা সমাধান হবে।

মুখের ব্রণ দূর করার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা দাগ মিটতে কতদিন সময় লাগে?

(১) ব্রনের দাগ সদ্য না পুরনো।

(২) ব্রনের দাগ হালকা না গাঢ়।

(৩) আপনার ত্বকের হিলিং পাওয়ার অর্থাৎ আপনার ত্বক যে কোনো ক্ষতকে ভরতে কত দিন সময় লাগায়। এটি ব্রনের দাগ, গর্তকে শেষ করার জন্য অনেক কার্যকরী যেটি প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে আলাদা আলদা হয়ে থাকে। এই জন্য অনেক লোক ৭-১০ দিনে ফল পেয়ে যায়। আর অন্য দিকে কিছু লোকের মাসেক খানেক সময় লেগে যায়। সুতরাং, ব্রনের দাগ মিটানোর জন্য সব থেকে কার্যকর দুটি রেমেডির ব্যাপারে আলোচনা করা হল:

প্রথম রেমেডি

  • এই রেমেডিটে লাগবে তাজা অ্যালোভেরা বা অ্যালোভেরা জেল।
  • ভিটামিন-ই ক্যাপসুল বা অয়েল।
  • লেবুর রস আর গোলাপ জল।

ভিটামিন-ই তে সেল রিপেয়ার আর এন্টি এজিং গুণ থাকে। যেটি রিংকেলসকে সেট করায় সাহায্য করে। গোলাপ জল আর লেবুর রসে স্কিন হোয়াইটেনিং প্রভাইটিশ পাওয়া যায়। যেটার থেকে এই দাগ, গর্তকে আর ত্বককে উজ্বল করতে সাহায্য করে।

Read More: চর্ম রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

এই অ্যালোভেরা জেল ব্রণ ও ব্রনের দাগ, গর্তকে মিটানোর জন্য অনেক সাহায্য করে।

  1. এটি বানানোর জন্য একটি পাত্রে অ্যালোভেরা জেল, একটি ভিটামিন-ই ক্যাপসুল ফুটো করে অয়েলটি বের করে নিতে হবে।
  2. তারপর অর্ধেক চামচ মাত্রায় লেবুর রস দিতে হবে আর অর্ধেক চামচ গোলাপ জল দিতে হবে।
  3. এরপর এই রেমেডিটা ভালো করে মিক্স করে নিতে হবে।
  4. এই রেমেডিটা লাগানোর আগে মুখ ভালো করে ফ্রেশ করে নিতে হবে।
  5. কিছুটা তুলো নিয়ে ওখানে লাগাতে হবে, যেখানে ওই দাগ, গর্তের সমস্যা আছে।
  6. এটি লাগানোর পর ২০-২৫ মিনিট রাখতে হবে তারপরে মুখ ঠিক করে ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

Read more:  দাদ রোগের ভেষজ চিকিৎসা Benefits of Apang tree in curing ringworm

এটির ব্যবহারে কিছুদিনের মধ্যেই মুখের ত্বকের পার্থক্য লক্ষ্য করা যাবে অর্থাৎ ভালো হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় রেমিডি

এই রেমিডিটি রাতে ব্যবহার করতে হবে। আর এই রেমিডিটা তারাও ব্যবহার করতে পারবে যাদের মুখে দাগ, গর্তের সাথে সাথে আগে থেকেই ব্রণ হয়ে আছে।

এই রেমেডিটি বানানোর জন্য যেটি প্রথমে প্রয়োজন পড়বে সেটি হল:-

  • মুলতানি মাটি, মুলতানি মাটিতে অনেক মিনারেলস আছে যেটি ত্বকের গভীরভাবে পরিষ্কার করে। অয়েল, নোংরা, ডার্ক, পলিউশনকে রিমুভ করতে অনেক সাহায্য করবে।
  • এরপর লাগবে তাজা অ্যালোভেরা, হলুদ গুঁড়ো, মধু আর গোলাপ জল। এই রেমিডিতে সব থেকে অ্যালোভেরা বেশি দরকারি তার কারণ এই অ্যালোভেরা দাগ গর্তকে দূর করার সাথে সাথে ব্রণের কারণে হওয়া গর্তকে আর ড্যামেজ ত্বককে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

মুখের ব্রণ দূর করার আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা

এই রেমেডি বানানোর জন্য

  1. ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল।
  2. ১ চামচ মুলতানি মাটি।
  3. অর্ধেক চামচ মধু।
  4. অর্ধেক চামচ হলুদ গুঁড়ো।
  5. আর অর্ধেক চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে একটি গাঢ় পেস্ট বানাতে হবে।
  6. যদি ত্বক শুকনো বা ড্রাই থাকে তাহলে মুলতানি মাটির মাত্রা অর্ধেক করে আর মধুর মাত্রা দুই গুন করে বাড়িয়ে দিতে হবে।
  7. এরপর এই পেস্টকে লাগানোর জন্য মুখটাকে ভালো করে পরিষ্কার করে তার ওপর এই পেস্টটিকে মাস্কের মত একটি মোটা লেয়ার বানিয়ে লাগাতে হবে।
  8. এই পেস্টটি লাগানোর পর ২০-২৫ মিনিট শুকনো হওয়ার জন্য রাখতে হবে।
  9. যখন এটি শুকিয়ে যাবে তখন মুখটি পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  10. তারপর যেকোনো ক্রিম মুখে লাগিয়ে নিতে হবে।

এর ব্যবহার শুধুমাত্র রাত্রিতে করতে হবে। আর মাত্র সপ্তাহে ১ থেকে ২ বারের বেশি ব্যবহার করলে ব্রণ এবং ব্রণের দাগ সবকে শেষ করে দেয় এই পেস্ট।

এই দুটি রেমেডির মধ্যে যেকোনো একটি ব্যবহার করলেই এই ব্রণ বা ব্রনের সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়া যাবে।

Disclaimer: উপরোক্ত রোগের বিষয় যে সমস্ত ভেষজ উদ্ভিদের দ্বারা রোগ নিরাময়ের বিষয় বলা হল সেগুলি ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই কোন  বা আয়ুর্বেদিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। রোগ নিরাময় পদ্ধতি গুলি যদি আপনি ব্যবহার করতে চান সেটি সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার, এর জন্য herbaltrees.in ওয়েবসাইট কোন ভাবেই দায়ী থাকবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *