Herbal Trees – Cure of native plants and fruits

অর্শ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা | Home Remedies for Hemorrhoids

অর্শ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা | Home Remedies for Hemorrhoids

অর্শ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা: অর্শ বা পাইলস রোগের সঠিক এবং স্থায়ী চিকিৎসার জন্য যে সকল বিষয় জানা উচিত তা হল: আমাদের মল নালী থেকে যে সমস্ত শিরা-উপশিরায় বেরিয়ে মলদ্বার ব্যাপ্ত করে রয়েছে। মলদ্বারে বায়ু ও রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে এই শিরা-উপ শিরাগুলি স্ফীত হয়ে বা ফুলে উঠে ছোট ছোট গুটি কার সৃষ্টি করে, এই গুটিকা গুলির নাম হল বলি। আর এই বলিতে যে বাঁশের অঙ্কুর সৃষ্টি হয় তাকেই অর্শ বলে। অনেক সময় আঙ্গুরের গুচ্ছের মত অনেক বলি সৃষ্টি হয়। মলদ্বারের বাইরের দিকের বলিকে বলে বহির বলি। মধ্যের বলিকে বলে মধ্য বলি। আর তার চেয়েও আরো উপরের বা ভেতরের বলিকে বলে অন্তর বলি। বলি গুলিতে দূষিত রক্ত এসে জমা হয়।এ কারণে মাঝে মাঝে এই বলিতে বেদনা, জ্বালা বা চুলকানি সৃষ্টি হয়। অনেক সময় বলি বা গুটিকা ফেটে গিয়ে রক্তস্রাব হয়। এই ধরনের অর্শকে বলে রক্তার্শ বা পরিস্রাবি অর্শ।

অর্শ রোগ দুই প্রকারের হয়: শুষ্ক অর্শ | পরিস্রাবি অর্শ। রক্তস্রাব না হলে শুষ্ক অর্শ হয় আর রক্তস্রাব হলে পরিস্রাবি অর্শ হয়।

Home Remedies for Hemorrhoids

অর্শ রোগ মলদ্বারের সৃষ্টি হয় ঠিকই। কিন্তু এই রোগ শুধু মাত্র মলদ্বারের রোগ নয়। অর্শ রোগ সমস্ত শরীরের রোগ ।বায়ু, পিত্ত, কফ, সেইসঙ্গে ত্বকে মাংস, রক্ত, মেদ এই সব কিছু কুপিত বা দূষিত হয়ে অর্শ রোগ সৃষ্টি করে।

সুতরাং, এই রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সেই সব কিছু মাথায় রেখে চিকিৎসা করতে হবে।

অর্শ থেকে অন্য বহু রোগ উৎপন্ন হয়। সমস্ত দেহই পিরিত হয়ে পড়ে এবং এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে অনেক কষ্ট পেতে হয়। সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, স্থূলতা, লো ফাইবারযুক্ত ডাইট।এমনকি, অনেকক্ষণ টয়লেটে একটানা বসে থাকাও এই অর্শ রোগের কারণ।এছাড়াও প্রেগন্যান্সিতেও এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।বেশিরভাগ মহিলাদেরই গর্ভকালীন সময়ে এই রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এসকল কারণ ছাড়াও এক বড় কারণ হল বয়স বৃদ্ধি। বয়স যত বৃদ্ধি পাবে, অর্শ রোগের ঝুঁকি তত বৃদ্ধি পাবে।

অর্শ রোগের লক্ষণ

(১) কারো কারো ক্ষেত্রে যন্ত্রণা এবং রক্তপাত এই দুটি লক্ষণই থাকে। কারণ, কারো ক্ষেত্রে আবার শুধু যন্ত্রনা থাকে, কারোর ক্ষেত্রে যন্ত্রণাহীন রক্তপাত হয়। কিন্তু খুবই রক্তপাত হয়।

(২) মলদ্বারে জ্বালা ও চুলকানি ভাব থাকে।

(৩) মলদ্বার ফোলা ভাবও লক্ষ্য করা যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে এই ফোলা ভাব থাকে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে থাকেনা। বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফোলা ভাব থাকে।

(৪) ফোলা চুলকানি জ্বালা ছাড়াও মলদ্বারে খুবই ব্যথা থাকে এবং এক অত্যন্ত অস্বস্তিকর ভাব থাকে।

(৫) প্রথমেই বলা হয়েছে, মলদ্বারে এক বা একাধিক গুটিকার সৃষ্টি হয়। এই লম্বা বলি বা গুটিকা মলদ্বারের বাইরের দিকেও সৃষ্টি হতে পারে। আবার একটু ভেতরের দিকে ও সৃষ্টি হতে পারে। আর এই গুটিকাতে মাংসের অঙ্কুর সৃষ্টি হয় এবং এই অঙ্কুরকেই বলে অর্শ। আর এই অঙ্কুর থেকেই রক্তপাত হয়।

অর্থ কি কি, কি ধরনের হয়ে থাকে। এর বিভিন্ন কারণ ও লক্ষণ জানা হলো।এবার এই রোগ হলে কি কি খাবার একেবারেই খাওয়া চলবে না এবং কি কি খাবার বেশি ও নিয়মিত খেতে হবে। এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।অর্শ রোগের সঠিক চিকিৎসায় ওষুধের ভূমিকা অপরিহার্য এবং অনস্বীকার্য ঠিকই কিন্তু স্থায়ীভাবে এই রোগের প্রতিকার এবং প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর।

অর্শ রোগীদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস অতি প্রয়োজনীয় বিষয়

পাইলস বা অর্শ প্রতিরোধ এমনকি প্রতিকারের সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হল মল নরম রাখা। এতে অতি সহজে এবং যন্ত্রণাহীন ভাবে মলত্যাগ সম্ভব হবে। অর্শের প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং এর বিভিন্ন লক্ষণ দূর করতে কয়েকটি পরামর্শ অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

(১) প্রচুর পরিমাণে ফল-মূল ও শাক-সবজি খেতে হবে।এতে যে ফাইবার থাকে তা মল তৈরি এবং সঠিকভাবে নিঃসরণে প্রবল সহায়তা করে।

(২) পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় জল পান করতে হবে। দিনে ৬ থেকে ৮ গ্লাস জলপান অবশ্যই করতে হবে।

(৩) নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।

(৪) মলত্যাগের প্রয়োজন অনুভূত হলে, বেশিক্ষণ অপেক্ষা করবেন না। এতে মল শুষ্ক ও শক্ত হয়ে যায়। আর এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের উদ্ভব হয়। অর্থাৎ মলবেগ ধারণ করবেন না।

(৫) মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত প্রয়াসের উদ্দেশ্যে বেশি চাপ বা কোত দেওয়া উচিত নয়। এতে মলদ্বারের শিরা-উপশিরায় চাপ পড়ে এবং এর ফলে সৃষ্টি হয়। যারা ইতিমধ্যে অর্শের সমস্যায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে রক্তপাত বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ অতিরিক্ত কুন্থন দেবেন না।

(৬) মল ত্যাগের সময় একটানা বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না। এতে মলদ্বারের শিরাতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে যা অর্শ রোগীর ক্ষেত্রে শুধু নয়,সুস্থ ব্যাক্তির ক্ষেত্রেও ক্ষতিকর।অর্থাৎ টয়লেটে একটানা বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না।

অর্শর প্রতিরোধ করতে হলে আরও কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে অর্থাৎ সতর্ক থাকতে হবে।যাদের পাইলস বা অৰ্শের সমস্যা নেই।তারাও সতর্ক না হলে যে কোনো সময় এই রোগ দেখা দিতে পারে।

(৭) অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ, অত্যাধিক নেশা, দ্রব্য গ্রহণ,বেশি গরম খাবার গ্রহণ,মল ত্যাগের সময় অতিরিক্ত কুণ্ঠন,এসকল কারণের যে কোনো এক বা একাধিক কারণ ঘটলে অর্শ সৃষ্টি হতে পারে।অর্থাৎ অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করবেন না।বেশি গরম খাবার খাবেন না।অতিরিক্ত নেশাও অর্শের কারণ হতে পারে।

(৮) অর্শ সৃষ্টি হলে যতদিন পর্যন্ত সুস্থ না হচ্ছেন।ততদিন যেকোনো প্রকার তেলেভাজা,খাসির মাংস, লুচি,পরোটা এগুলি একেবারেই খাওয়া চলবে না।অর্থাৎ মাংস,তেলেভাজা কিছু খাবেন না।লুচি বা পরোটাও নয়।

(৯) পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের খুবই প্রয়োজন। ওল কচু, মান কচু ও পেঁপে অশ্ব রোগীর জন্য খুবই উপকারী।

অর্শ রোগের আয়ুর্বেদ শাস্ত্র সম্মত সঠিক ঘরোয়া চিকিৎসা (The correct home treatment for hemorrhoids according to Ayurveda)

যে অর্শের ক্ষেত্রে যন্ত্রণা এবং রক্তপাত উভয়ই থাকে। সেক্ষেত্রে, এই ঔষধ খুবই কার্যকর। কয়েকটি মোটামুটি পুষ্ট ঝিঙে লাগবে। ঝিঙেটি বেশি কচিও হবে না আর বেশি পুষ্টও হবে না। এই ঝিঙে গুলি কুচি করে কেটে নিতে হবে। তারপর সেগুলিকে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে শুকনো ঝিঙের কুচি বা টুকরোগুলিকে ভালো করে গুরো করে মিশিয়ে নিতে হবে। ঝিঙের পাউডার ১ গ্রাম পরিমাণে ১ কাপ উষ্ণ জলসহ খেতে হবে। সকালে এবং বিকেলে এই ওষুধটি খেতে হবে। এটি অবশ্যই কয়েকদিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে যাওয়া যাবে।

তবে মনে রাখতে হবে, ঝিঙে যেহেতু জলীয় সবজি। তাই শুকিয়ে গেলে খুবী কমে যায়। তাই সপ্তাহ দুয়েকের ওষুধ তৈরি করে নিতে হলে ৫-৬ টি ঝিঙে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে।

যদি অর্শ থেকে রক্তপাত হয় কিন্তু যন্ত্রণা নেই।কিংবা রক্তপাত এবং যন্ত্রণা দুটি লক্ষণই রয়েছে। সেক্ষেত্রেও, এটি ব্যবহার করা যায়।

গাঁদা ফুলের পাপড়ি ছাড়িয়ে নিয়ে থেঁতো করে তা ১ চামচ রস বের করে নিতে হবে। এবার এই রসের সঙ্গে আধ চামচ মাখন মিশিয়ে নিতে হবে। এটি সকাল-বিকাল অর্থাৎ দিনে দুবার খেতে হবে। ৩-৪ দিন যন্ত্রণা এবং রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে।কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে তাও ছেড়ে যাবে।

যদি অর্শের ক্ষেত্রে যন্ত্রণা না থেকেও শুধুমাত্র রক্তপাত হতে থাকে। সেক্ষেত্রে, পুরনো তেঁতুল, এক বছরের পুরনো তেতুল হলেই হবে। কিছুটা পুরনো তেতুল ১ কাপ জলে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন ওই জলটি ছেঁকে নিয়ে পান করতে হবে। এভাবে সপ্তাহ দুয়েক খেতে হবে। এই ওষুধে দ্রুত যন্ত্রণা কমে যাবে। এমনকি, রক্তপাতও বন্ধ হয়ে যায়।

Disclaimer: উপরোক্ত রোগের বিষয় যে সমস্ত ভেষজ উদ্ভিদের দ্বারা রোগ নিরাময়ের বিষয় বলা হল সেগুলি ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই কোন  বা আয়ুর্বেদিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। রোগ নিরাময় পদ্ধতি গুলি যদি আপনি ব্যবহার করতে চান সেটি সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার, এর জন্য herbaltrees.in ওয়েবসাইট কোন ভাবেই দায়ী থাকবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *